Usabangladesh24.com | logo

১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২রা আগস্ট, ২০২১ ইং

এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সাক্ষাৎকার মেসির জন্য জীবন দিতে পারি, মেসির জন্য মরতে পারি

প্রকাশিত : জুলাই ১৯, ২০২১, ১৪:১৪

এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সাক্ষাৎকার মেসির জন্য জীবন দিতে পারি, মেসির জন্য মরতে পারি

স্পোর্টস ডেস্কঃ আর্জেন্টিনা আর মেসিকে কোপা আমেরিকায় জেতানোর নায়কদের একজন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

কোপা আমেরিকা জয়ে তাঁর উন্মাতাল উদ্‌যাপন

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ: (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে) মিম দেখে এটা বুঝতে পেরেছি। আমি মাঠে কী বলেছিলাম (কলম্বিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে টাইব্রেকারের সময়ে) এটা দেখে মানুষ খুব চমকে গেছে, কিন্তু আমার কাছে এটা স্বাভাবিকই। যারা আমাকে চেনে, তারা জানেন মানুষ হিসেবে আমি কেমন। কারও জন্যই আমি বদলাব না। যা করি, তা অনেক প্যাশন নিয়েই করি। সেটির জন্য লড়াইয়ে কোনো বাধা মানি না। মাঠে দর্শক না থাকায় সবাই সবকিছুই শুনতে পাচ্ছে।

আমি যা বলেছি, তার কিছুই একেবারে অভাবনীয় কিছু নয়। আমি শুধু পেনাল্টি কিক নিতে আসা খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলেছি। আগে এটা সেভাবে দেখা যায়নি, কিন্তু আমি এটা সব সময়ই করি। প্রতিপক্ষকে ভড়কে দেওয়ার জন্য করি না, করি নিজেকে সাহস জোগাতে, নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে। জানি, আমি টাইব্রেকারে পাঁচটা শটের মধ্যে তিনটা ঠেকিয়েছি বলে—চিলির বিপক্ষে ম্যাচে পেনাল্টি হিসেবে নিলে ছয়টির মধ্যে চারটি—মানুষ আমার এসব কথাতে অনেক মজা পাচ্ছে।

কিন্তু জানি, তখন পর্যন্ত আমি আর্জেন্টিনা দলে ছয় কি সাতটা ম্যাচই খেলেছি। তখনো কিছু জিতিনি। ফাইনালে যাওয়ার পর যদি সেখানে কোনো উল্টোপাল্টা কিছু হতো, তখন এসবের দাম কি থাকত? কিছুই না! মানুষের এখন এসব ভালো লাগছে আমরা ফাইনাল জিতেছি বলে। সেমিফাইনালে আমি ভাগ্যবান ছিলাম বলে পাঁচটার মধ্যে তিনটা শট ঠেকাতে পেরেছি।

 

ব্যক্তিগত, দলীয় সব শিরোপা সঙ্গে নিয়ে মেসি ও মার্তিনেজ।

 

কিন্তু যদি ফাইনালে আমি বড় কোনো ভুল করতাম বা ভুল করেও ভাবতাম ‘ব্যাপার না, পুরো দুনিয়া তো এখন আমাকে চেনে’, সে ক্ষেত্রে ফাইনালে হেরে গেলে কোনো লাভই হতো না। ওই ম্যাচে ওই মুহূর্তে আমি অনেক রোমাঞ্চিত ছিলাম। সংবাদমাধ্যম, মানুষ, মিম…সবকিছু একপাশে সরিয়ে রেখে শুধু তা-ই করেছি, যেটা আমি সব সময় করি। যেটা আমি আর্সেনাল, রেসিং বা অ্যাস্টন ভিলায় করি। সত্যিটা হচ্ছে, মানসিক ও শারীরিকভাবে আমি সে সময়ে অনেক বেড়ে উঠেছি। আজ এই মুহূর্তে নিজেকে নিয়ে একটা ভালো লাগা কাজ করছে। এভাবে আরও উন্নতি করে যেতে হবে।

এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে সবাই যেভাবে চেনে

মার্তিনেজ: এটা স্বাভাবিক। মানুষ গ্রেট আর্জেন্টাইন গোলকিপারদের মনে রেখেছে এমন ব্যবধান গড়ে দেওয়া মুহূর্তগুলোতে তাঁদের অবদানের জন্যই। গোলকিপারদের জীবনটাই এমন। সবাই নাম্বার নাইন বা নাম্বার টেনকে মনে করে। গোলকিপাররা সব সময় আড়ালেই থেকে যায়। গোলকিপারের গোলকিপার হওয়াও তো কোনো একটা কারণেই, তাই না? কারণ, সে নাম্বার টেনের মতো বল পায়ে অত ভালো খেলতে পারবে না।

কিন্তু আজ মানুষ আমাকে আমার কোনো একটা কথা বা কোনো একটা শট ঠেকানোর জন্য মনে রাখছে। বলছে, দিবু (মার্তিনেজের ডাকনাম) একটা সেভ করেছে। এমন কিছু মানুষ পাতোকে (২০০৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গোলকিপার রবার্তো আবোনদানজিয়েরির ডাকনাম) নিয়ে বলতে শুনতাম। কোনো গোলকিপার ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ কোনো সেভ করলে মানুষ বলত, এই ছেলেটা পাতো কিংবা গয়চোর (১৯৯০ বিশ্বকাপের গোলকিপার সের্হিও গয়কোচিয়া) মতো সেভ করেছে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে দারুণ কিছু দেখানোর কারণে ওই গোলকিপারদের মানুষ মনে রেখেছে।

বা চিকিতোকে (২০১৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গোলকিপার সের্হিও রোমেরো) হাভিয়ের মাচেরানো যে কথাটা বলেছিলেন, যে কথাটা তাঁকে পেনাল্টি (২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে) ঠেকাতে সাহস জুগিয়েছিল, ওই কথাগুলোই ভেবে দেখুন।

লিও (মেসি, কলম্বিয়ার বিপক্ষে কোপার সেমিফাইনালে টাইব্রেকারের সময়ে) ও রকম করে আমাকে এসে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, দেখো, তুমি ঠিকই একটা শট ঠেকিয়ে দেবে! আপনার দলে যখন এমন অমিত প্রতিভাবান একজন খেলোয়াড় থাকে, যে কিনা প্রতি ম্যাচে আপনার দলকে উদ্ধার করে, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জন্য সবকিছু নিংড়ে দেয়, তাকে ফাইনালে তুলতে একেবারে কম হলেও তো এতটুকু করতেই হয়! এটাই করতে চেয়েছি আমি।

লিওনেল মেসির অন্য কোনো দিক তাঁর মনে দাগ কেটেছে কি না

মার্তিনেজ: উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘ওদের ক্রসগুলো সামলে নিয়ো, ওরা ক্রসে অনেক আগ্রাসী।’ অধিনায়ক হিসেবে অনেক নির্দেশনা দেন তিনি, আমাদের সবাইকে সাহায্য করেন।

(সেমিফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে) তিনি পেনাল্টিতে গোল করার পর চাইলেই আবার ফিরে সোজা মাঝবৃত্তের দিকে চলে আসতে পারতেন, কিন্তু সেটা না করে তিনি আমার দিকে গেলেন, বললেন, ‘দেখো, তুমি ঠিকই একটা শট ঠেকিয়ে দেবে!’ পরের শটটাই ঠেকিয়ে দিলাম আমি! তাঁর প্রভাব এমনই। এটাকে শব্দে ব্যাখ্যা করা কঠিন। এতটুকু বলি, তিনি অসাধারণ একজন অধিনায়ক, দুনিয়ার সব দলই তাঁকে অধিনায়ক হিসেবে পেতে চাইবে।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্মারক জার্সি আগেই বানিয়ে রেখেছিল আর্জেন্টিনা। ফাইনাল জয়ের পর সেই জার্সি পরে উল্লাস মেসিদের

ইনস্টাগ্রামে মার্তিনেজকে নিয়ে মেসির আবেগপ্রবণ পোস্ট

মার্তিনেজ: ওটা দেখে আনন্দে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। এই শব্দগুলো, এই ছবিগুলো এমন যেগুলো আপনি সারা জীবন নিজের কাছে রাখতে চাইবেন। ওর সঙ্গে আমার আলিঙ্গনের ছবি, এমন ছবি সারা জীবন রেখে দেওয়ার মতো। শুধু ইনস্টাগ্রাম পোস্টই নয়, সেমিফাইনালেও তিনি এসে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। (সেমিফাইনালের পর) সংবাদমাধ্যমের সামনেও আমাকে নিয়ে বলেছিলেন, এরপর ইনস্টাগ্রামে ছবি। এসব কিছু ফাইনালে আমাকে ঝাঁপিয়ে পড়তে, আরও ভালো করতে প্রেরণা জুগিয়েছে। আমাকে শক্তি জুগিয়েছে।

মেসির পোস্ট দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন কি না

মার্তিনেজ: তিনি যে একটা ছবি দিয়ে ক্যাপশনে লিখলেন, ‘ও একটা ফেনোমেনন’, এরপর ফাইনালে কীভাবে আমি ভালো না খেলি! তাঁর জন্য আমি জীবন দিতে পারি, মরতে পারি। চার-পাঁচ মাসে আগেও বলেছিলাম যে আমার আগে তিনিই কোপা আমেরিকা জিতলে আমি বেশি খুশি হব (তখনো আর্জেন্টিনা দলে ডাক পাননি মার্তিনেজ)। এটা মন থেকেই বলেছি, প্রত্যেক আর্জেন্টাইনই এটাই বলবে। আমার মনে হয়, ব্রাজিলিয়ানরাও আর্জেন্টিনাকে কোপা জিততে দেখতে চেয়েছিল শুধু মেসির কারণে। আর সেখানে একজন আর্জেন্টাইন চাইবে না মেসি এটা জিতুক? শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। এখন আমার স্বপ্ন, আমরা তাঁকে যেন বিশ্বকাপটাও উপহার দিতে পারি।

দি পল বলেছিলেন, অনুশীলনে মেসিকে কখনো হারতে না দেখা তাঁকে চমকে দিয়েছে। মেসির কোন দিকটি মার্তিনেজকে চমকে দিয়েছে?

মার্তিনেজ: (টুর্নামেন্টে টানা ৪৫ দিন জৈব সুরক্ষাবলয়ে থাকার সময়ে) আমরা ট্রুকো (কার্ডের খেলা) খেলতাম। মার্চেসিন, মুসো আর আমি এক দলে, অন্য দিকে মেসি, পারেদেস আর দি পল। ২০-৩০ রাতে আমরা ট্রুকো খেলেছি।

তিনি আর দশজন মানুষের মতোই! অসাধারণ একজন মানুষ, যিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে কিছু জিততে খুব করে চাইতেন, সম্ভবত জাতীয় দলে অন্য যে–কারও চেয়ে বেশি করে চেয়েছেন। তাঁর এই চাওয়াটাই আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে গেছে। আমাদের গ্রুপটাতে নতুন অনেক খেলোয়াড় এসেছে, সবার মধ্যে এই মানুষটার জেতার বাসনা ছড়িয়ে গেছে। এরপর আমরা কিছু জেতার জন্য ঝাঁপিয়ে না পড়ি কীভাবে?

লিওনেল মেসি কেমন, তাঁর সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা কেমন

মার্তিনেজ: আপনারাই লিখেছেন, আমি এমন একজন আর্জেন্টাইন, যে কিনা তার স্বপ্ন ছুঁতে পেরেছে। সেটার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই থামাইনি। আমি জানি না লিও আর কতগুলো কোপা আমেরিকা বা বিশ্বকাপ খেলতে পারবে, অন্তত একটা কোপা আমেরিকা তাঁর পাশে খেলতে পারা…কোপা আমেরিকায় যখন আমার অভিষেক হয়েছে, আমি তখনই বলেছিলাম, আমার স্বপ্ন ছোঁয়া হয়ে গেছে।

টুর্নামেন্টের সেরা গোলকিপার হয়েছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ

এরপর আমরা শিরোপাও জিতলাম, এটা আমি কল্পনাতেও ছিল না। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের সঙ্গে যেকেউই খেলতে চাইবে, আর একই দলে থেকে তাঁকে খেলতে দেখা (গোলপোস্টে) আমাকে আরও ভরসা দিয়েছে, খেলোয়াড় হিসেবে আমাকে আরও ভালো বানিয়েছে।

আপনারাই লিখেছেন, তিনি অন্য খেলোয়াড়দের ভালো খেলতে সাহায্য করেন। সেটা সাধারণত মাঠের অন্য নয়জনকে নিয়ে বলা হয়, কিন্তু তিনি আমাকেও ভালো খেলতে সাহায্য করেছেন, অথচ আমি একজন গোলকিপার! আমার মনে হয়, যদি তাঁর সঙ্গে একই লিগে প্রতি ম্যাচ খেলতে পারতাম! গোলকিপার হিসেবে আরও ভালো হয়ে উঠতাম।

অ্যাস্টন ভিলায় দারুণ মৌসুম শেষে জাতীয় দলের সঙ্গে ৪৫ দিন ছিলাম। অ্যাস্টন ভিলায়ও আগের চেয়ে অনেক উন্নতি করেছি আমি, কিন্তু জাতীয় দলে আরও ১০ থেকে ১৫ শতাংশ উন্নতি করেছি। ছোটবেলায় আপনি ‘ড্রাগন বল জি’ (জাপানিজ অ্যানিমে টিভি সিরিজ) দেখেছেন? আমি সেখানকার ভেগেটা ছিলাম, মেসির সঙ্গে খেলার সময়ে আমি সেখান থেকে সুপার সাইয়ান হয়ে গেলাম!

লিয়ান্দ্রো পারেদেস বলেছেন মেসি মাঠে যা করেন, দেখে অবিশ্বাস্য লাগে। মার্তিনেজের চোখে মেসির এমন অবিশ্বাস্য কিছু আছে?

মার্তিনেজ: ঠিক কোনো নির্দিষ্ট মুভ দিয়ে উত্তর দেওয়া যাবে না। ফ্রি-কিকের কথা ধরুন, মেসির ফ্রি-কিক নেওয়া মানেই গোল হওয়ার পথে অর্ধেক এগিয়ে যাওয়া। একটা ডেড বল এটা, এটাতে তিনি ক্রস ঠিকঠাক লাগাতে পারলেই গোল। তিনি যখন বল পায়ে পান, আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন যে তিনি সহজে বল হারাবেন না।

ধরুন আমরা ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ১-০ গোলে এগিয়ে আছি, মেসি বলটা নিয়ে প্রতিপক্ষ কর্নারের দিকে চলে যাবেন। তখনো ম্যাচের পাঁচ মিনিট বাকি থাকলেও আপনি ধরে নিতে পারেন আমরা ম্যাচটা জিতে গেছি।

এই ব্যাপারগুলোই আপনাকে অনেক নির্ভরতা দেবে। অ্যাস্টন ভিলায় আমরা কিছু ম্যাচ হেরেছি ৯১-৯২তম মিনিটে গোল খেয়ে। কিন্তু এখানে প্যারাগুয়ে কিংবা উরুগুয়ের মতো দলের বিপক্ষে ৮৯তম মিনিটেও বলটাকে আমরা ওদের কর্নারের দিকে নিয়ে যাওয়া মানে ধরে নেওয়া যায় আমরা ১-০ গোলে জিতছি। এই ব্যাপারগুলো স্বস্তি দেয়। এই যে ছোট ছোট ব্যাপার, এগুলো আমাদের সবাইকে নির্ভার হয়ে আরও ভালো খেলতে সাহায্য করেছে।

সংবাদটি পড়া হয়েছে 6 বার

A Concern Of Positive International Inc USA.
All Rights Reserved -2019-2021

Editor In Chief : Hamidur Rahman Ashraf
Editor : Habib Foyeji
Managing Editor : Mohammad Sahiduzaman Oni
CEO : Mahfuzur Rahman Adnan

2152- B, Westchester Ave., Bronx, New York 10462 USA.

Phone : 9293300588, 7188237535

7188237538 (Fax)

Email :
usabangladesh24@gmail.com (News)

info@usabangladesh24.com (CEO)