ইরানের সস্তা ড্রোন যেভাবে পাল্টে দিচ্ছে যুদ্ধের ধরন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ৭ অক্টোবর থেকে এ
পর্যন্ত অন্তত ১৬৫টি হামলা হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক হামলার ঘটনা কোনও না
কোনও ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হবে, এমনটি প্রায় অনিবার্য
ছিল। অবশেষে গত সপ্তাহে তা-ই ঘটেছে। বলা হচ্ছে, গত সপ্তাহেই প্রথমবারের মতো
মধ্যপ্রাচ্যে শত্রুর ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। সিরিয়ার জর্ডান
সীমান্তে এক মার্কিন ঘাঁটিতে ওই ড্রোন হামলায় তিন সেনা নিহত ও অন্তত ৮০ জন
আহত হন। খুব কম মানুষই জানতো যে টাওয়ার-২২ নামের ওই স্থাপনাগুলো আসলে
একটি মার্কিন ঘাঁটি।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরাকের ইরানপন্থি জঙ্গি গোষ্ঠী
কাতাইব হিজবুল্লাহ এই হামলার সঙ্গে জড়িত। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন
সরাসরি এই হামলায় অস্ত্র সরবরাহের জন্য তেহরানকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন,
‘জঙ্গি গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র সরবরাহ করেছে তেহরান।’ মূলত এই ড্রোনগুলো
দ্রুতগতির ও তুলনামূলক সস্তা– যা যুদ্ধের ধরন পাল্টে দিচ্ছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মধ্যপ্রাচ্যের অস্ত্র
বিশেষজ্ঞ ফ্যাবিয়ান হিনজ বলেছেন, ‘১৯৯০-এর দশকে কাতাইব হিজবুল্লাহর মতো
মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালাতে পারতো। কিন্তু
এখন তারা ছোট ছোট ড্রোন দিয়েও বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। এমনকি এখন
সবচেয়ে ছোট ড্রোনগুলোও দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে আঘাত হানতে
পারে।

টাওয়ার-২২-এর একটি কোয়ার্টারে যে ড্রোনটি আঘাত হেনেছিল সেটির সঠিক মডেলটি
জানা যায়নি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি এক ধরনের শাহেদ ড্রোন
হতে পারে। যদি তাদের অনুমান সঠিক হয়, তাহলে সম্ভবত এটি ছোট শাহেদ ১০১ বা

ডেল্টা উইং শাহেদ ১৩১ হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই দুই ধরনের ড্রোন কাতাইব
হিজবুল্লাহর অস্ত্রাগারে মজুত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: